নেপালে বাঞ্জি জাম্প দিয়েছিলাম ২০১৯ সালে। তখনই মনে মনে ঠিক করেছিলাম, জীবনে একবার হলেও স্কাই ডাইভিং করব। তবে সেটা দুবাইয়ের মতো এলাকায় নয়, যেখানে ভেসে ভেসে পর্বতের দৃশ্য দেখা যাবে এমন জায়গায়।
আমার এই স্বপ্নের কথা অবনী রায় জানত। এ বছরের শুরুতে তার সঙ্গেই ঠিক করি আমার আসছে জন্মদিনে দীর্ঘদিনের স্বপ্নটা পূরণ করব। ১২ আগস্ট আমার জন্মদিন, তার আগেই খোঁজখবর করি—কোথায় স্কাই ডাইভিং করা যায়, সেটা আমার মনের মতো জায়গা কি না, খরচ কেমন ইত্যাদি। খোঁজ নিয়ে দুটি জায়গা পছন্দ হলো। বেছে নিলাম জুলিয়ান আল্পস (আল্পস পর্বতমালার অংশ) ঘেরা স্লোভেনিয়ার বোভেক। কারণ, সুইজারল্যান্ডে যেখানে ৯০০ ইউরো (প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা) লাগে, স্লোভেনিয়া সেটা পেলাম ৩৯০ ইউরোতে (প্রায় ৬০ হাজার টাকা)। এই প্যাকেজের মধ্যেই আবার ছবি ও ভিডিও করে দেবে তারা। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অবনী আর চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবী আমার কাছে এ তো বিরাট সুযোগ। সঙ্গে সঙ্গেই স্কাই ডাইভিং সেন্টারে ই-মেইল করে স্লট নিয়ে নিলাম।
স্কাই ডাইভিংয়ের সময় যখন ঘনিয়ে এল, তখনই মনে হলো, যাবই যখন, আশপাশের কয়েকটা দেশও তো ঘুরে দেখতে পারি। পরে সেটাই ঠিক হলো। প্রথমে ফ্রান্স থেকে চলে গেলাম ক্রোয়েশিয়া। অবনী থাকে ফিনল্যান্ডে, আমাদের আরেক বন্ধু নিশি চৌধুরীকে সঙ্গে করে সেও চলে এল আমার জন্মদিনে। দেশটির সমুদ্রপাড়ে তিন দিন কাটিয়ে ঢুকে পড়লাম স্লোভেনিয়ায়।
