আমাদের পূর্বপুরুষেরা কী খেতেন, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের বেশ কৌতূহল রয়েছে। অনেক প্রাণী ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকলেও মানুষ কেন ঘাস খায় না, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। গরুর মতো তৃণভোজী প্রাণীদের সেলুলোজ ভাঙার জন্য বিশেষ পাকস্থলী ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া থাকে। ঘাস থেকে কার্যকরভাবে পুষ্টি আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম ও শক্তিশালী পরিপাকতন্ত্র নেই বলে মানুষ ঘাস হজম করতে পারে না। প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় মানুষের পূর্বপুরুষদের খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্য অন্বেষণ নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ভিদ উপাদান গ্রহণ করলেও পরিপাকতন্ত্র প্রচুর পরিমাণে সেলুলোজ–সমৃদ্ধ ঘাস প্রক্রিয়াজাত করার জন্য অভিযোজিত হয়নি। বিবর্তনের ধারায় মানুষের হজমক্ষমতা অন্য সব প্রাণীর চেয়ে আলাদা হয়েছে
সেলুলোজ উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরে পাওয়া একটি জটিল কার্বোহাইড্রেট। তৃণভোজী প্রাণীরা খুব সহজে সেলুলোজকে হজমযোগ্য শর্করায় ভেঙে ফেলতে পারে। তাদের পরিপাকন্ত্রে সেলুলোজ ভাঙতে বিশেষ এনজাইম থাকে। মানুষের মধ্যে এই এনজাইমের অভাব থাকে। ফলে মানুষ ঘাস খেলে সেলুলোজ পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে অপাচ্য থেকে যায়। ঘাস থেকে শরীরে অনেক কম পুষ্টি আসে।
